রোববার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩ পৌষ ১৪২৪, ২৮ রবিউল আওয়াল, ১৪৩৯ | ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৭ ০২:১০:০৩ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

মালয়েশিয়ায় সফল ইমিগ্রেশন আইনজীবী সালাহউদ্দিন রাজু

ড. শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ  রাজু। পেশায় ইমিগ্রেশন আইন বিশেষজ্ঞ। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন মানুষের কাছে জনপ্রিয় তিনি।

সম্প্রতি একান্ত আলাপচারিতায় এনটিভি অনলাইনের কাছে কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন রাজু।

বেড়ে ওঠা

কর্মজীবনে সফল এই আইনজীবীর জন্ম বহমান পদ্মা নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদের পাশের জেলা মাদারীপুরে। হাজি মোহাম্মদ শরীয়তউল্লাহর জন্মভূমি শিবচর তাঁর উপজেলা।

ছাত্ররাজনীতি

কলেজে পড়া অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজু বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন ছাত্ররাজনীতিতে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছেন সামনে থেকে।

একজন আইনজীবী রাজু

একজন সফল আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও ইমিগ্রেশন আইন বিশেষজ্ঞ রাজু। নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিতেই বেশি ভালোবাসেন।

রাজনীতিক-কলামিস্ট

ছাত্ররাজনীতির পথ ধরেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন রাজু। পাশাপাশি তিনি একজন সফল কলামিস্ট। বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক সংবাদপত্রে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তাঁর লেখনীতে মানবাধিকারের বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। বর্তমানে তিনি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দেশ প্রতিদিন’-এর সম্পাদক।

প্রবাসে আইনি সেবা

এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় রাজু বর্ণনা করেন প্রবাসীদের দুঃখ-কষ্টের কথা। এ সমস্যার কথা মাথায় রেখে তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন সময়ে আইনি সহায়তা দিয়েছেন।

রাজু  বলেন, প্রবাসে প্রত্যেক বিদেশিকে আইনকানুন মেনে চলা উচিত এবং সে দেশের মানুষকে  শ্রদ্ধা করা উচিত। তিনি বলেন, প্রবাসে আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু অনেক প্রবাসী এখনো আইনের বাস্তব প্রয়োগ জানেন না। এ আইনকানুন না জানার কারণে অনেক বাংলাদেশিকে পদে পদে ঠকতে হচ্ছে।

‘বিদেশে আমি দেখেছি নানা জটিলতায় আমাদের দেশের প্রবাসীরা দিন কাটাচ্ছেন। অসহায়ভাবে যেমন দিন কাটাচ্ছেন, তেমনি প্রতারণারও শিকার হচ্ছেন তাঁরা’, বলেন  ড. রাজু।

ইমিগ্রেশন আইনের এ বিশেষজ্ঞ বলেন, বিভিন্ন দেশ ঘুরে তিনি আইন বিষয়ে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।  সে অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রবাসীদের দীর্ঘদিন ধরে আইনের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি যেকোনো সময় সমস্যায় জর্জরিত প্রবাসীদের কল্যাণ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বসবাস নিয়ে

রাজু বলেন, সারা দুনিয়ায় যখন চলছে অস্থিরতা, তখন পৃথিবীর শান্তিপূর্ণ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। দেশ দুটিতে নিরাপদে স্থায়ী বসবাস করা বেশ সহজ, তবে অনেকেই না জেনে পা বাড়াচ্ছেন ভুল পথে। সঠিক পথে সহজেই যাঁরা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বসবাস করতে চান, তাঁদের তিনি সাহায্য করছেন।

রাজু বলেন, একজন মানুষ বিদেশে কীভাবে স্থায়ী বসবাস করতে পারেন, সে বিষয়ে তাঁর অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

মালয়েশিয়া স্থায়ী হতে চাইলে কী করতে হবে?

এনটিভি অনলাইনের এমন প্রশ্নের জবাবে রাজু বলেন, মালয়েশিয়ায় এসডিএন ও বিএইচডি কোম্পানির অধীনে বিজনেস রেসিডেন্স ভিসা নিলেও নাগরিকত্ব পাওয়া বেশ কঠিন। বরং আন্তর্জাতিক কোম্পানির অধীনে বিজনেস রেসিডেন্স ভিসা করলে পাঁচ বছর পর মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব (পিআর) পাওয়া বেশ সহজ হয়।

এ ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হলো কোনো মালয় নাগরিকের সুপারিশ প্রয়োজন হয় না। এমনকি অন্য কোনো সংস্থা থেকেও কোনো প্রত্যয়নপত্র (রিকমেন্ডেশন লেটার) প্রয়োজন হয় না। ব্যবসায়ী ভিসা নিলে মালয়েশিয়া থেকে পৃথিবীর ৭৩টি দেশে মাত্র ৩ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে রি-এক্সপোর্ট বিজনেস করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক কোম্পানির অধীনে বিজনেস রেসিডেন্স ভিসা পেতে পূর্ণ জীবনবৃত্তান্ত ও বিজনেস প্রোফাইল তৈরি করে নিতে হবে। পাসপোর্টের ফটোকপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ব্যাংকের বিবৃতি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের চারটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি আর স্থানীয় কমিশনার বা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে চারিত্রিক সনদ দরকার হবে।

এ বিষয়ে রাজু বলেন, সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

অভিবাসন বিষয়ে অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যায় লোক বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। বিদেশ যাওয়া ও বিদেশে অবস্থানকারী দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী অভিবাসন নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অভিবাসনের এই বিষয়গুলো রাজু সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও ইমিগ্রেশন আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও মালয়েশিয়ায় সপরিবারে বিজনেস মাইগ্রেশন এবং ইমিগ্রেশন নিয়ে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি।


একজন মানবাধিকারকর্মী রাজু

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাজু নিজেকে একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি ‘সাউথ এশিয়ান ল ইয়ার্স ফোরাম’-এর সভাপতি।

লেখক রাজু

শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজুর আইন ও কলামবিষয়ক কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৫ সালে ‘সময়ের ভাবনা’ বইটি পাঠকমহলে বেশ আলোচিত হয়েছে। এবারের বইমেলায় তাঁর বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হবে বলে জানান তিনি

আরো খবর