রোববার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩ পৌষ ১৪২৪, ২৮ রবিউল আওয়াল, ১৪৩৯ | ১১:৩১ অপরাহ্ন
মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭ ০৬:১৫:৫০ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

‘প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান প্রধান বিচারপতি’

 

সংসদ ও এমপিদের বৈধতার প্রশ্ন আনার আগে প্রধান বিচারপতির সরে যাওয়া উচিত ছিল। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, উচ্চ আদালতে থেকে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট যাকে নিয়োগ দিলেন তিনিই তার ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাচ্ছেন। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করা ও পক্ষ নেয়া প্রধান বিচারপতির কাজ নয়। প্রধান বিচারপতি তার পর্যবেক্ষণে সংসদ সদস্যদের নিয়ে যে বৈধতা ও অবৈধতার প্রশ্ন এনেছেন এ ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে না। কথাগুলো পর্যবেক্ষণে লেখার আগে এ পদ থেকে ওনার সরে যাওয়া উচিত ছিল।

গতকাল রবিবার বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

বাংলাদেশে আর কাউকে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে দেয়া হবে না, যদি কেউ সে অপচেষ্টা চালায় তাকে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উচ্চ আদালতে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেউ অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা চালালে তার বিচার করা হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করায় জনতার আদালতে তার বিচার চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কেন বাংলাদেশকে পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুলনা করা হবে? আমাকে এ ধরনের হুমকি দিয়ে কোন লাভ হবে না। আমি বলব, সবকিছুই সহ্য করা যেতে পারে কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। পাকিস্তান রায় দিল বলে (প্রধানমন্ত্রী পদে নওয়াজ শরীফের ক্ষমতায় থাকা অবৈধ ঘোষণা) কেউ আমাকে ধমক দিল, আমি জনগণের কাছে এর বিচার চাই। শেখ হাসিনা আরও বলেন, ওই হুমকি আমাকে দিয়ে লাভ নাই, আমরা আইয়ুব খান দেখেছি, ইয়াহিয়া খান দেখেছি, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াকে দেখেছি। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়ন করছি, জনগণের কাছেই আমরা দায়বদ্ধ।

আলোচনার শুরুতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সামনে অস্থায়ী স্মৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে ২১ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের সিনিয়র নেতা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৫ আগস্টের অন্যান্য শহীদ, চার জাতীয় নেতা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর যাই হোক পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন তুলনা সহ্য করা হবে না। সুতরাং পাকিস্তানে কী হয়েছে না হয়েছে সে বিষয়ে কোন হুমকি দেবেন না। এটা সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, অবৈধভাবে আর কেউ ক্ষমতা দখল করতে পারবে না। যদি কেউ সে চেষ্টা করে সংবিধান অনুযায়ী তার বিচার হবে।

প্রধান বিচারপতির বক্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে অপমানজনক আজকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা। যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধে হারিয়েছি, যুদ্ধে হারিয়ে বিজয় অর্জন করেছি। অনেকেই পাকিস্তানের দালালি করেছে। জনগণের আদালত বড় আদালত, জনগণের আদালতকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না মন্তব্য করে জনগণের কাছে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের জন্য বিচার দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পাকিস্তান রায় দিল দেখে কেউ ধমক দেবে, আমি জনগণের কাছে বিচার চাই। জনগণের কাছে বিচার চাই, পাকিস্তানের সাথে কেন তুলনা করবে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কেন তুলনা করবে। আমাকে ওই হুমকি দিয়ে লাভ নেই।

আরো খবর