বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ৪ কার্তিক ১৪২৪, ২৮ মুহাররম, ১৪৩৯ | ০৬:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
  • শনিবার দৃশ্যমান হবে পদ্মা সেতু
  • বিশ্ব আইটি সম্মেলনে পুরস্কার পেল বিআইটিএম
  • নির্মাণের ২৯ বছর পর মুক্তি পাচ্ছে যে ছবি
  • খেলার খবর ফিরলেন নাসির-শফিউল, বাদ মাহমুদউল্লাহ-মুমিনুল
শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৬:০০:৩১ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

রুরি মরোমতে চাই ২০০ কোটি টাকা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০০ কি.মি. সড়ক-মহাসড়ক

টানা বৃষ্টি এবং বন্যায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের ক্ষতি হয়েছে। এসব সড়কের তাৎক্ষণিক মেরামতে প্রয়োজন প্রায় ২০০ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের কাছে এর মধ্যেই বরাদ্দের চাহিদা জানিয়েছে সওজ। সড়কগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত করতে হলে এ অঙ্ক আরও বাড়বে। বর্ষা শেষে আগামী নভেম্বরে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে।
সারাদেশে সওজের অধীনে জাতীয়
ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা সড়কের দৈর্ঘ্য ২১ হাজার ৩০২ কি.মি.। এবারের বন্যায় সওজের
১০ শতাংশ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটির পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের তথ্যানুযায়ী, দুই হাজার ৩০ কি.মি. সড়ক-মহাসড়ক বন্যায় নষ্ট হয়েছে। এসব সড়ক মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করতে জরুরি ভিত্তিতে ১৯৩ কোটি ৪৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কাছে।


স্থায়ী মেরামতে আড়াই হাজার কোটি টাকা :সড়ক-মহাসড়কগুলোর স্থায়ী মেরামতে কত টাকা লাগতে পারে, সে হিসাব এখনও করা হয়নি। তবে সওজ কর্মকর্তাদের ধারণা, এ ক্ষেত্রে আড়াই হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। কারণ স্থায়ী মেরামত করতে গেলে কোথাও কোথাও নতুন করে সড়ক নির্মাণ করতে হবে। কোথাও পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থা পাল্টে ফেলতে হবে। অনেক স্থানে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে।
গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামছুল হক বলেন, এবারের বন্যা ও বর্ষা ছিল দীর্ঘমেয়াদি। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। তবে সড়কের মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। কারণ বাংলাদেশের প্রকৃতি বিবেচনায় বর্ষা সহনীয় সড়ক নির্মাণের কথা। কিন্তু তা না হওয়ায় বন্যা-বৃষ্টিতে নতুন সড়কও টিকছে না। সঠিক মান বজায় রেখে নির্মাণ করলে এমন দুরবস্থা হওয়ার কথা নয়।


ক্ষয়ক্ষতির হিসাব হয়নি ২১ জেলার :প্রাথমিক হিসাবে গত জুলাই ও আগস্ট মাসের বন্যায় সওজের ৯টি অঞ্চলের ৪২টি জেলায় সড়ক-মহাসড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২৫৫টি সড়কের কোথাও আংশিক ভেঙে গেছে। কোথাও পানির তোড়ে ভেসে গেছে। কোথাও সড়কের উপরিভাগের পুরো পিচ ধুয়েমুছে গেছে। অনেক জায়গায় ভেসে গেছে সেতু-কালভার্ট ও সংযোগ সড়ক। ২২ জেলার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। সেগুলো ফেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
এনডিআরসিসির হিসাবে ক্ষতি সাত হাজার কি.মি. সড়কের : সওজের সড়ক ছাড়াও বন্যায় ক্ষতি হয়েছে স্থানীয় সরকার ও পানি উম্নয়ন বোর্ডের অধীন পথঘাটের। এ ক্ষেত্রে দুই বিভাগের সড়কের ক্ষয়ক্ষতি সওজের তুলনায় বেশি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্রের (এনডিআরসিসি) তথ্যানুযায়ী, ২১ জেলায় স্থানীয় সরকারের প্রায় সাত হাজার ১৩০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এবারের বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর সড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রংপুর জোন) ফকির আবদুর রব সমকালকে জানিয়েছেন, রংপুরের ১০ জেলায় বন্যায় ৭৯টি সড়ক-মহাসড়কের ক্ষতি হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৫৭২ দশমিক ৩ কি. মি.। এর তাৎক্ষণিক সংস্কারে প্রয়োজন ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মধ্যমেয়াদি সংস্কারে প্রয়োজন ৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। স্থায়ী মেরামতে বরাদ্দ প্রয়োজন ৫৮৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে দরকার ৬৮১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।


সবচেয়ে বেশি ক্ষতি জামালপুরে : অন্যান্য জোনেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম নয়। তবে বিভিম্ন জোনে এখনও পূর্ণাঙ্গ হিসেব করা হয়নি। সওজের অতিরিক্ত প্রকৌশলী (রাজশাহী জোন) আবু রওশন জানিয়েছেন, সেখানে জরুরি মেরামতে প্রয়োজন ৩৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। বন্যাপরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সিলেট জোনে, ৫২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জামালপুর জেলায়। ময়মনসিংহ জোনে সড়ক-মহাসড়কের তাৎক্ষণিক মেরামতে প্রয়োজন ১২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া গোলাপগঞ্জ জোনের জন্য ৪৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ঢাকার জন্য দুই কোটি ১০ লাখ টাকা, চট্টগ্রামের জন্য ২১ কোটি ২০ লাখ টাকা, খুলনার জন্য তিন কোটি পাঁচ লাখ টাকা, কুমিল্লার জন্য ৫০ লাখ টাকা চেয়েছে সওজ।
জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা সড়কের বাইরে স্থানীয় সরকারের গ্রামীণ পর্যায়ের রাস্তাও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এনডিআরসিসির তথ্যানুযায়ী, জামালপুর জেলায় এক হাজার ১০৪ কিলোমিটার রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। টাঙ্গাইলে ৯৯৭ কি.মি., কুমিল্লার ৮৮০ কি.মি., পঞ্চগড়ের ৮৫৮ কি.মি., নীলফামারীতে ৫৩৬ কি.মি. রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। অন্যান্য জেলায়ও গ্রাম ও শহরের উল্লেখযোগ্য দৈর্ঘ্যের অভ্যন্তরীণ রাস্তা ভেঙে গেছে।
কুমিল্লা ও খুলনায় বন্যা হয়নি : অন্যান্য জোন বন্যা আক্রান্ত হলেও কুমিল্লা ও খুলনায় এবার বানের পানি আসেনি। সওজের অতিরিক্ত প্রকৌশলী (খুলনা জোন) রুহুল আমিন জানিয়েছেন, বন্যা না হলেও টানা বৃষ্টিতে এ জোনের ১০ জেলার সড়ক-মহাসড়কের ক্ষতি হয়েছে। খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব রাস্তা মেরামতে প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

আরো খবর