রোববার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩ পৌষ ১৪২৪, ২৮ রবিউল আওয়াল, ১৪৩৯ | ০৯:৩০ অপরাহ্ন
মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭ ০৪:১৫:৩৩ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

গরু নিয়ে বিপাকে বানভাসি খামারিরা


মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামের আরশাদুল ইসলাম আট মাস ধরে চারটি ষাঁড় পালন করছেন। কোরবানির ঈদে গরুগুলো বিক্রি করে যা উপার্জন হবে, তা দিয়ে চলবে তাঁর পরিবারের সারা বছরের খরচ। তবে বন্যায় বাড়িঘর ও মাঠঘাট তলিয়ে যাওয়ায় গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

গতকাল বাচামারা উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে কথা হয় আবদুলের সঙ্গে। তিনি জানালেন, এই আশ্রয়কেন্দ্রে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ঠাঁই হয়েছে। ঠাঁই হয়েছে গরুগুলোরও। চারদিকে পানি। কোথাও গোখাদ্য নেই।

একই আশ্রয়কেন্দ্রে দুটি ষাঁড় নিয়ে থাকছেন বাচামারা সকিম মাতব্বরপাড়ার খামারি মোশারফ হোসেন। তিনি জানালেন, ফসলের জমি, মাঠঘাট সব তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্য পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে গমের ভুসি কিনতে হচ্ছে। এতে গরু বিক্রি করে খুব একটা আয় করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা তাঁর।

এই সমস্যা শুধু তাঁদের নয়, জেলার ছয়টি উপজেলার বন্যাকবলিত খামারিদেরও। দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলায় যমুনা নদী এবং হরিরামপুরে পদ্মার চরাঞ্চলগুলোতে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সারা বছরই গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া পালন করেন খামারিরা। এসব পশু বিক্রির টাকা দিয়েই তাঁদের পরিবারের সারা বছরের খরচ চলে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলার সব কটিতেই কোরবানির পশু পালন করা হয়ে থাকে। দৌলতপুর, হরিরামপুর, শিবালয় ও সাটুরিয়া উপজেলায় চরাঞ্চল রয়েছে। এসব চরাঞ্চলের আয়ের প্রধান উৎসই পশু পালন। এ বছর দৌলতপুরে ১ হাজার ৪১৪ জন খামারি ৭ হাজার ষাঁড় ও ৫ হাজার ৬৬৭টি ছাগল, হরিরামপুরের ২ হাজার ১১৪ জন খামারি ৬ হাজার ৯২৪টি ষাঁড় ও ৫ হাজার ১২০টি ছাগল, সাটুরিয়ার ২ হাজার ৩৪৯ জন খামারি ৭ হাজার ৭২৯টি ষাঁড় ও ৪ হাজার ৪৪৪টি ছাগল, ঘিওরের ৩ হাজার ২১৪ জন খামারি ৭ হাজার ১৯০টি ষাঁড় ও ৫ হাজার ৫১৮টি ছাগল, সিঙ্গাইরের ৩ হাজার ৪৫৯ খামারি ১২ হাজার ৯০৭টি ষাঁড় ও ৫ হাজার ৬০০ ছাগল, শিবালয়ের ২ হাজার ১২২ জন খামারি ৭ হাজার ৭৫১টি ষাঁড় ও ৫ হাজার ৯০০টি ছাগল এবং জেলা সদরের ২ হাজার ৪৬১ জন খামারি ১১ হাজার ৭৭০টি ষাঁড় ও ৫ হাজার ৬০৮টি ছাগল পালন করছেন।

দৌলতপুর, শিবালয়, ঘিওর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খামারিরা গরু ও ছাগল নিয়ে রাস্তা, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই পলিথিন টানিয়ে বৃষ্টি থেকে গরুকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করছেন। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল না পেয়ে তলিয়ে যাওয়া বসতভিটায় মাচা তৈরি করে কোরবানির পশু রেখেছেন।

দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রাহাতপুর গ্রামের খামারি বাবু এ বছর ১৫টি গরু মোটাতাজা করেছেন। তিনি বলেন, বসতভিটায় পানি উঠেছে। উঠানে মাটি ফেলে কিছুটা উঁচু স্থান তৈরি করে সেখানে গরুগুলোকে কোনোরকমে রাখা হয়েছে। গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে গরুগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, দুর্গত এলাকার খামারিদের গরুর চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে জরুরি ভেটেরিনারি মেডিকেল দল গঠন করা হয়েছে। তাঁরা বন্যাকবলিত এলাকার পশুপাখির চিকিৎসা প্রদানসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।

আরো খবর